আমি কেনো মাদানী? জবাবে যা বললেন বক্তা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা

মদিনা ইউনিভাির্সিটিতে না পড়ে নামের শেষে মাদানী ব্যবহার করতেন শারীরিক আকৃতিতে ছোটো বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা। এ বিষয়টি হুবহু মিলে যায় এক হেফাজত নেতার সাথে। তার নামও মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সম্প্রতি তিনি বক্তা রফিককে তার নামের লকব পরিবর্তনে এক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন। গতকাল এ বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।

এদিকে শারীরিক আকৃতিতে ছোটো বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা এখন আর নামের শেষে মাদানী শব্দ ব্যবহার করেন না। বরং ঘোষণা দিয়ে তিনি এ নাম ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন। তিনি এখন নামের শেষে নিজ জেলার দিকের সম্পৃক্ত করে নেত্রকোনা লেখেন। নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসায় পড়েছি। এজন্য আমার নামের শেষে মাদানী শব্দ ব্যবহার করি।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নামের শেষে আমি কেনো মাদানী লিখি? এই প্রশ্নটা এত বেশি আমাকে করা হয়েছে যার উত্তরটি আজ দিচ্ছি। অনেক সময় দেখা যায় আপনি যে মাদরাসায় পড়েছেন সেই মাদরাসার নামে ছাত্রদের নাম দেওয়া হয়। যেমন জামিয়া রাহমানিয়া থেকে যারা ফারেগ হয়ে তাদের বলা হয় রাহমানি।

যাত্রাবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান এর নিজের প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের চরখরিচায় মাদরাসা। তার মাদরাসার নাম ‘জামিয়া মাহমুদিয়া।’ ওখান থেকে যারা আলেম হয় মাওলানা হয় তাদের বলা হয় মাহমুদী। আর আমার মাদরাসা যেহেতু জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা সেটার নিসবতে আমি মাদানী লিখেছি।

শিশু বক্তা রফিক বলেন, আমি মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়িনি। মদিনা ইউনিভার্সিটির কথা বলে আমি অযথা মিথ্যা কথা বলতে পারবোনা। আমি জামিয়া মাদানিয়া নিসবতেই মাদানী লিখি। তাছাড়া আমার ওস্তাদ আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সামনে রেখে আমাকে মাদানী বলেছেন আমার হুজুর মাওলানা মাসউদ সাহেব। এজন্য আমি মাদানী শব্দটি ব্যবহার করি।

তিনি বলেন, আমার শিশু বক্তা শব্দটি মোছার প্রয়োজন ছিল। শিশু বক্তা শুনতে আমার ভালো লাগত না। শিশু বক্তা বলে মানুষ আমার সমালোচনা করত। এটাকে মোছার জন্য আমি মাদানী শব্দ ব্যবহার করি।

তিনি আরও বলেন, যদি আপনারা কেউ মনে করেন যে আপনার এ মাদানী লেখা উচিত না। তাহলে আমি আমি স্পষ্ট করে বলছি, কোন রকমের মিথ্যা বা বানোয়াট কোন কথা নয়। আমি কোন মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছি না। আমি মাদানী শব্দ ব্যবহার করবো না। আর আমার এ নাম ব্যবহার করে আমি মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি এটা বোঝানো কিংবা মানুষকে ধোঁকা দেওয়া আমার মোটেও উদ্দেশ্য না।

শুধুমাত্র শিশু বক্তা শব্দটি মোছার জন্য আমি মাদানী লিখেছি। তবে আপনারা যদি মনে করেন যে আমার মাদানী লেখা উচিত না। তাহলে আমি আর মাদানী লিখবো না।